শীর্ষ দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে প্রবৃদ্ধির হার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে এখনো অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। এ দুয়ের সম্মিলিত প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য পরিমাণে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল বেড়েছে ব্যারেলে ১৭ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৮ ডলার ৬৭ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৩১ সেন্ট বা দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৬ ডলার ৬৯ সেন্টে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক জন এভান্স বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বিষয় থেকে বাজারসংশ্লিষ্টদের মনোযোগ কিছুটা সরে গিয়েছিল। তবে সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা ইরাকের কুর্দিস্তানে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলার ঘটনার পর বিনিয়োগকারীরা আবারো সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, এমন যেকোনো ঘটনা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রভাব ফেলবে।’
সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা বুধবার জানিয়েছেন, ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলার কারণে দৈনিক প্রায় দেড় লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থাপনায় কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কম আয়ের দেশগুলোর জন্য কম শুল্কহার নির্ধারণের বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়া চীনের সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ এবং ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ে সম্ভাব্য চুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে।
টিনা টেং নামের এক স্বতন্ত্র বিশ্লেষক বলেন, ‘চীনের ভালো অর্থনৈতিক তথ্য ও শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নমনীয় অবস্থান বিশ্ব বাণিজ্যে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমেছে। এ সময় দেশটির মোট মজুদের পরিমাণ ছিল ৪২ কোটি ২২ লাখ ব্যারেল।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ তথ্য বাজারে পরিশোধন কার্যক্রম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে সম্প্রতি রুশ সংবাদমাধ্যম আরআইএকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওপেকের সেক্রেটারি জেনারেল হাইসাম আল ঘাইস জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। এছাড়া পরবর্তী মাসগুলোয় বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য টানটান থাকবে।
ভিয়েনায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওপেক সেমিনারের ফাঁকে আল ঘাইস বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকায় ২০২৫ সালে দৈনিক ১৩ লাখ ব্যারেল হারে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়তে পারে। বিশেষ করে তৃতীয় প্রান্তিকে চাহিদা বৃদ্ধি শক্তিশালী ধারা বজায় রাখবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকেও জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা বজায় থাকবে। এ সময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুব বেশি বাড়বে না। এ কারণেই আটটি দেশের জোট পুনরায় উত্তোলন বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।’
তবে ওপেক সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড অয়েল আউটলুক ২০২৫’ প্রতিবেদনে আগামী চার বছরের বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছে। চীনের অর্থনীতিতে ধীরগতির প্রবৃদ্ধির কারণে আগের দেয়া প্রাক্কলন সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।